।। নিজস্ব প্রতিবেদক,১৩ জানুয়ারি ২০২৬।।
বান্দরবানে লামা উপজেলার আজিজনগর গজালিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ আজম খানের অবৈধ ইটভাটা। অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসবিএম ব্রিক ফিল্ড নামের ইটভাটাটিতে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ ও বনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আজিজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজম উল্লাহ খান এবং তার দুই ছেলে ফরহাদ ও আলভি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আজম উল্লাহ খান আজিজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসবিএম নামে ইটভাটা স্থাপন করেন তিনি। বর্তমানে ভাটাটি পাহারা দিতে রাখা হয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী। ফলে এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে পার্বত্য তিন জেলায় অবৈধ সব ইটভাটা ভেঙে ফেলার কথা থাকলেও প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইটভাটার পাশের নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার এক দোকানদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ইটভাটার শ্রমিকদের কারণে নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়া, রাসুঙ্গ ত্রিপুরা পাড়া,মেজাং মেম্বার পাড়া এই তিনটি পাড়ার মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে আছে। বিশেষ করে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছেন না। পাহাড়ি কোনো নারী একা গ্রামের বাইরে গেলে ইটভাটার শ্রমিকদের দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, শ্রমিক ও ম্যানেজাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আজম উল্লাহ খানের ছেলে ফরহাদ, ম্যানেজার কবিরসহ শ্রমিকরা তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। এসময় তারা হত্যার হুমকি দেয় এবং ইটভাটার চুল্লিতে মানুষ পুড়িয়ে ফেলার মতো ভয়ংকর বক্তব্য দেয়।
তবে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ আজম খান বলেন, ইটভাটার অনুমোদন নেই। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে মেনেজ করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার দায় তিনি শ্রমিকদের ওপর চাপান।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন“জেলায় কয়টি ইটভাটা চালু আছে তার সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে লামা উপজেলায় ৩১টি ইটভাটা রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “লামা উপজেলায় ২৮টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। অনেকগুলোতে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটাও একবার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। শুনেছি আবার চালু হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে আবারও অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে আওয়ামীলীগনেতার অবৈধ ইটভাটা, ধংস হচ্ছে বনাঞ্চল-পাহাড়, আতঙ্কে তিন পাড়াবাসী
Previous Articleসেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানে অস্বচ্ছলদের মানবিক সহায়তা
Related Posts
Add A Comment
